CALL FOR PAPERS - SEPTEMBER, 2026
দুলাল চক্রবর্তী: থিয়েটার জগতে এমনটা খুবই কম হয়েছে। নাট্যকর্মীদের আজও কোনো ফেডারেশন নেই; তাই পারস্পরিক কথা বলার অভ্যাস থিয়েটারের প্রয়োজনীয় চলনে কোনোদিনই ভাব বিনিময়ের উৎসে পরিণত হয়নি। অতীতে কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে কিছু ভাবগত অথবা বিষয়গত নাট্যকর্মী সম্মেলন হয়েছে। তবে এই প্রথম গয়েশপুরের মাটিতে যে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রাণিত উত্তাপের সৃষ্টি হলো, তা অন্তত “গয়েশপুর মঞ্চসেনা” দল করে দেখালো। গয়েশপুর মঞ্চসেনা সংস্থা নিজেদের নাট্যচর্চার ৪৯ বছর অতিক্রম করে পঞ্চাশে পা রাখার প্রাক্কালে বন্ধু নাট্যদল ও নাট্যস্বজনদের মুখোমুখি এলো। অতীতে যেভাবে তিলে তিলে রাজনৈতিক মতাদর্শের বিশ্বাসে অনেকের আদর ও ভালোবাসায় দলটি বেড়ে উঠেছিল, সেই প্রেক্ষাপটেই এই মিলনমেলা। সুকান্ত সদন প্রেক্ষাগৃহ ও মঞ্চে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য ও স্মরণীয়ভাবে সকলেই দেখে নিলেন কীভাবে এতটা পথ পার হতে হয়েছে। ভবিষ্যতে সময়ের জেহাদে এটি ছিল অন্যতম এক সূচনালগ্ন। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে যেখানে সংগ্রামী নাট্যজন ও দলের অভিজ্ঞতালব্ধ শ্রদ্ধাবোধকে সম্মান জানানোর ইচ্ছা আকাশে জ্বলেছিল শুভকামনার পঞ্চাশটি প্রশান্ত প্রদীপ হয়ে।
তাই শুধু কথা, গান ও আলাপের এই অভিনব উদ্যোগে শামিল হয়েছিলেন নাট্যকার, নাট্য আলোচক, নাট্য গবেষক, অভিনেতা-অভিনেত্রী, নাট্য নির্দেশক এবং নাট্য প্রতিযোগিতা ও উৎসবের আয়োজকবৃন্দ। সকলকেই অত্যন্ত আদরে ও সম্মানে একত্রিত করেছিল এই সংস্থা। যদিও দূর-দূরান্ত থেকে আমন্ত্রিত ৫০ জনের মধ্যে ৩৫ জন নাট্যবন্ধু এসে এই ভাববিনিময় পর্বে যুক্ত হয়েছিলেন। তবে যেকোনো কারণে যাঁরা আসতে পারেননি, তাঁরা নিশ্চিতভাবেই বুকে টেনে নেওয়া ভালোবাসা-বিচ্ছিন্নতার দুর্ভাগ্যেই থেকে গেলেন। যাই হোক, চিরদিন আমরা নিজেরাই এভাবে বুঝে নেব আমাদের চলার যথাযথ পথের দিশা; চিনে নেব আত্ম-নাট্যস্বজন। মতে ও পথে হয়তো সবাই একসাথেই নামব।
এমনি মর্মে, “দিবে আর নিবে, মিলাবে মিলিবে” ভাবনায় গত ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ গয়েশপুর মঞ্চসেনার সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষ উদযাপনের ৩য় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এক পারস্পরিক আলাপচারিতা এবং সম্পর্ক প্রতিস্থাপন পর্ব। গয়েশপুর সুকান্ত সদনে অনুষ্ঠিত এই “নাট্যজন সম্মেলনে” আমন্ত্রিত এবং উপস্থিত সম্মানিত নাট্যজনদের নামগুলি হলো (ত্রুটি মার্জনীয়):
১) চন্দন সেন, নাট্যকার ২) শিবংকর চক্রবর্তী, নাট্যকার ৩) মৈনাক সেনগুপ্ত, নাট্যকার ৪) সব্যসাচী মুখোপাধ্যায়, নাট্যকার ৫) দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, সম্পাদক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক (গ্রুপ থিয়েটার পত্রিকা) ৬) মলয় ঘোষ, নাট্যকার, নির্দেশক, অভিনেতা এবং ইলোরা নাট্যপত্র সম্পাদক ৭) সমীর বাগচী, গণনাট্য পত্রিকা ৮) কঙ্কন ভট্টাচার্য, মিউজিক কম্পোজার ও গণসঙ্গীত শিল্পী ৯) শ্যামল ভট্টাচার্য, গণনাট্য পত্রিকা ও গণশক্তি নাট্য আলোচক ১০) অপূর্ব কুমার দে, নাট্যকার, অভিনেতা, প্রাবন্ধিক ও গবেষক ১১) দুলাল চক্রবর্তী, অভিনেতা, প্রাবন্ধিক ও নাট্য আলোচক ১২) অরুণকান্তি ঘোষ, পরিচালক, অভিনেতা, কবি ও প্রাবন্ধিক ১৩) স্নেহ ভট্টাচার্য, নাট্যকার, অভিনেতা ও দর্শক-নাট্যজন ১৪) সন্দীপ ব্যানার্জী, রূপসজ্জা শিল্পী ও নাট্য বিশ্লেষক (জলপাইগুড়ি) ১৫) রাজা ভৌমিক, পরিচালক ও অভিনেতা ১৬) সমীর সেনগুপ্ত, পরিচালক ও অভিনেতা এবং অভিনেত্রী সীমা সেনগুপ্ত (চুঁচুড়া সারথী সংস্থা) ১৭) মনোজ প্রসাদ, আলোকশিল্পী ও নাট্য সংগঠক ১৮) নিমাই দে, আলোকশিল্পী ১৯) জয়ব্রত দত্ত, নাট্য প্রতিযোগিতা সংগঠক (লুকারগঞ্জ ক্লাব, এলাহাবাদ) ২০) দেবব্রত গোস্বামী, সংগঠক (ময়নাগুড়ি অ্যাথলেটিক ক্লাব) এবং সংশ্লিষ্ট দুলাল বাবু (সংগঠন তত্ত্বাবধায়ক) ২১) তাপস দত্ত, সংগঠক (নববারাকপুর নাট্যমেলা কমিটি) ২২) সত্যব্রত পাল, সভাপতি (সোনারপুর বইমেলা কমিটি) ২৩) কনক মুখোপাধ্যায় (কাঁচরাপাড়া ফিনিক নির্দেশক, অভিনেতা, সংগঠক) এবং সাথে অভিনেতা মহাদেব সেন ও দলের সম্পাদক প্রদীপ বিশ্বাস ২৪) দেবাশিস সরকার (হালিশহর ইউনিটি মালঞ্চ নির্দেশক ও অভিনেতা) ও অভিনেতা বাবলু চৌধুরী ২৫) বৃশ্চিক (বাঁশবেড়িয়া) ২৬) সঞ্জয় নাগ (খামারপাড়া শিশু সংঘ) ২৭) সুশান্ত হালদার (কৃষ্ণনগর সিঞ্চন দলের নির্দেশক, অভিনেতা, নাট্য শিক্ষক ও নাট্যকার) ২৮) বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায় (নাট্যরূপা চিত্তরঞ্জনের অভিনেতা ও সংগঠক) ২৯) দীপক মিত্র (ইছাপুর আলেয়া দলের অভিনেতা ও সংগঠক) ৩০) উত্তম কুমার সরকার ও নির্মল সিনহা (ফরাক্কা ব্যারেজ রিক্রিয়েশন সেন্টার আয়োজিত নাট্য প্রতিযোগিতা কমিটির সম্পাদক) ৩১) শান্তনু চক্রবর্তী (বিরাটি সারথি নাট্যসংস্থা) ৩২) অম্বর চম্পটি (থিয়েটার প্রসেনিয়াম দলের নির্দেশক, অভিনেতা ও সংগঠক) এবং অভিনেত্রী শিপ্রা চম্পটি ৩৩) রঞ্জন রায় (ব্যান্ডেল আরোহী দলের গায়ক, অভিনেতা, নির্দেশক ও নাট্যকার) ৩৪) শুভাশিস দাস ও তাপস সাহা (গয়েশপুর সংলাপ দলের নাট্যশিল্পী) ৩৫) দিবা মুখোপাধ্যায়, অভিনেত্রী (গয়েশপুর মঞ্চসেনা)। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মিহির সূর ও দলের প্রধান নাট্যকর্মী এবং শিল্পী সমাজ।
এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনিবার্যভাবেই বাংলা মফস্বলি নাটকের ঘরানার গৌরব বেড়ে গেল। চলমান বাংলা নাটকের দরবারে আনুমানিক পনেরো হাজার নাট্যদল আছে বলে শোনা যায়। একই কাজে সবাই থাকলেও পারস্পরিক সংযোগ নেই। দূরত্ব বজায় রেখেই আমরা সবাই পাশাপাশি নাট্য মঞ্চায়ন করি, কিন্তু মুখোমুখি হতে পারি না। সেই বাসনার তৃপ্তি সাধন করেছে এই নাট্যজন সম্মেলন। গয়েশপুর মঞ্চসেনা এই মান্যবর নাট্যজনদের মঞ্চে এনে সম্মানিত করেছে এবং মনের কথা বলার অবকাশ দিয়েছে। গয়েশপুর মঞ্চসেনা দল তাদের দীর্ঘ অতীত নাট্যকর্মের ওপর ভিত্তি করে “আনাড়ির থিয়েটার” শীর্ষক একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেছে। এতে আছে দলের কথা, নাট্যজনদের ভাবনা ও বক্তব্য, এযাবৎ সমস্ত প্রযোজনার খুঁটিনাটি ইতিবৃত্ত, পঞ্চাশ বছরের খতিয়ান এবং প্রবীণ নাট্যজনদের লেখা প্রবন্ধ। অনেক দলের স্মরণিকা প্রকাশিত হয়, কিন্তু এমন বৃহৎ উদ্যোগ ও আন্তরিক প্রকাশ কমই দেখা যায়। শতবর্ষের লক্ষ্যে এগিয়ে চলা গয়েশপুর মঞ্চসেনার এই আয়োজনে ৪৯টি প্রজ্বলিত প্রদীপের সামনে উদ্বোধনী ৫০তম প্রদীপটি জ্বালিয়েছিলেন ৮২ বছর বয়সী এবং ৬২ বছর ধরে নাট্যচর্চায় নিযুক্ত ব্যক্তিত্ব চন্দন সেন। সকলের উচ্ছ্বাসে এই আনন্দ আয়োজন অত্যন্ত ঋদ্ধিজ্ঞাপক হয়েছিল।
Rabindra Nagar Natyaayudh
Publication Department
3, West Rabindra Nagar
Kolkata, 700065, West Bengal
📞9874053622/9331834142