CALL FOR PAPERS - MAY, 2026
দুলাল চক্রবর্তী: কলকাতা বীক্ষণ সংস্থা নির্মাণ করেছে গিরিশ কার্নাডের হয়বদন অনুসৃত একটি নিপুণ মিউজিক্যাল ড্রামা। নাটকের নাম “ঘোড়ামুখো পালা”। লোকায়ত ভাবনার আসর নাটকের আদলে পালাগান বা কথকতা পরিবেশন আঙ্গিকে এই নাটক পরিবেশিত হয়েছে। গত ১২ মার্চ তপন থিয়েটারে নিজেদের উদ্যোগে এই নাটকের মঞ্চায়ন হয়েছে। এপর্যন্ত হওয়া ৪/৫ টি প্রদর্শনীতেই ঘোড়ামুখো পালা বাংলা নাটকের দরবারে সাড়া ফেলেছে। প্রথমত গল্পের গুরুত্ব এবং দ্বিতীয়ত নির্মাণ-নিষ্ঠায় কুশল দক্ষতাই নজরে পড়ার কারণ। এই প্রযোজনায় উঠে এসেছে নারী-পুরুষের সম্পর্কের টানাপোড়েন। দেহের আর মুখ-মাথার পরিচয় দোটানা। মানুষের অন্তরের প্রেম-ভালোবাসার কেন্দ্রে দেহ আর মুখসহ মাথার সারস্বত ভূমিকা এই নাটক ব্যক্ত করেছে। লোকশ্রুতি ও লোককথায় বর্ণিত প্রাচীন মধ্যযুগীয় কল্পগল্প নিয়ে নির্মিত এই নাটকের নির্দেশনা দুর্দান্ত। সায়ক মুখার্জী নিজের মঞ্চভাবনাসহ সামগ্রিক পরিকল্পনাও চমৎকার। আলো, আবহ, ধ্বনি, বাদ্য, সংগীত এবং দেহের ভাষা নিয়ে নিখুঁত উপস্থাপনা। তাই দর্শকদের মনে, প্রতিটি খুঁটিনাটি কাজ ভাবে আর বক্তব্যে গেঁথে গেছে। শরীর মাথাকে নিয়ন্ত্রণ করে না, মাথা শরীরকে নিয়ন্ত্রিত করে, এই বক্তব্য প্রতিষ্ঠা করতে অসাধারণ একটি হারমোনিক উপস্থাপনা। প্রতিটি চরিত্রের প্রকাশে, প্রত্যেক অভিনেতা হৃদয় দিয়ে অনুভব করে, মাপা মঞ্চক্রিয়ায় নিজেদের মস্তিষ্ককে কাজে লাগিয়ে কর্তব্যকর্ম এবং নাট্যক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছেন। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে দেহ আর মাথা কোন মর্মে আনন্দের এবং সামান্য অদলবদলে কাঙ্ক্ষিত দেহের চাহিদা মস্তিষ্কবিহীনে বেকার, অবান্তর এবং যন্ত্রণাদায়ক অনুভূতিতে অশান্তি উদ্রেক করে। তাই প্রকাশে, মন এবং তার চাওয়ার বিপুল ব্যপ্তিতে এসেছে এক নারী আর দুই পুরুষের প্রেমাসক্তির চূড়ান্ত পরিণতি। যা মস্তিষ্ক বা মাথাহীনতায় ঘোড়ামুখো পালা হয়ে গেছে। গল্পের গভীরে থাকা মর্মকথা রীতিমতো ভাবিয়েছে। এই গল্পের চিরন্তন সারবস্তু আমাদের সংসারে, সমাজে এবং রাজনীতিতে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
এই ঘোড়ামুখো পালা নাটকের অনুবাদক কবি শঙ্খ ঘোষ। নাটকে পরিবেশিত গীত রচনা ও সংগীত পরিচালনা করেছেন উপালী চট্টোপাধ্যায়। সৌমেন চক্রবর্তীর আলোক পরিকল্পনা অভিজ্ঞ সংযোজন। এইভাবেই অঙ্গবিন্যাস, রাজু বেরা এবং নাটকের সম্পাদনা করেছেন সায়ক মুখার্জী ও সায়ন মাজি। মঞ্চ নির্মাণ করেছেন সৌরভ পয়রা। রূপসজ্জাকারক ঋক। ধ্বনি প্রদানকারী দীপাঞ্জন দত্ত। পদ্মিনী চরিত্রে মেরী আচার্য অনবদ্য। সূত্রধর বা পালামুখ্য হয়ে অগ্নিজিৎ সেন নিজের খ্যাতিকে প্রসারিত করেছেন। এই নাটকে কপিল চরিত্রে সৌমেন চক্রবর্তী এবং দেবদত্তের ভূমিকায় রাজু ধর দুই যুগপৎ শক্তি। ঘোড়ামুখো চরিত্রের মজাদার পরিবেশনে সুপ্রভাত মণ্ডল সুন্দর। একইভাবে মানানসই ভূমিকায় মহর্ষি চরিত্রে সুপ্রিয় মুখার্জী অভিনেতা এবং সায়কের বাবা হয়ে বিশিষ্ট অভিভাবক। পালার দলের কোরাসে ছিলেন, দেবদাস চক্রবর্তী, দীপজ্যোতি মণ্ডল, মণিদীপা পাইন, সুমন নস্কর, রিয়া দাস, রিয়া খাতুন, অমৃতা দত্ত ও শাশ্বত চৌধুরী এবং জুড়ির দলে জয়দীপ সিনহা, দীপ্তেশ মুখার্জী, শুভ্রজিৎ সেনগুপ্ত, অঙ্কিতা চক্রবর্তী ও অমিত গায়েন। নাটকের হয়ে ওঠার কৃতজ্ঞতায় আছেন শ্রাবন্তী ঘোষ, লোপামুদ্রা মুখার্জী, সুপ্রিয় মুখার্জী, বিলু দত্ত ও সাম্যব্রত মুখার্জী। নির্দেশনা সহায়ক, প্রযোজনা নিয়ন্ত্রক, পোশাক ও সাজসজ্জাসহ অপরূপ মা কালীর ভূমিকা অঙ্কিতা দাস এই প্রযোজনার বিশেষ শক্তি। এই প্রযোজনাটি এবারের ভারত রঙ্গ মহোৎসবে অভিনীত হয়েছে।
Rabindra Nagar Natyaayudh
Publication Department
3, West Rabindra Nagar
Kolkata, 700065, West Bengal
📞9874053622/9331834142