CALL FOR PAPERS - MAY, 2026
দুলাল চক্রবর্তী: ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট তারিখে ঘটে যাওয়া আর. জি. কর হাসপাতালের মহিলা ডাক্তার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার আকস্মিকতা ও বিভীষিকা ভয়ংকরভাবে সাংস্কৃতিক জগতকে আলোড়িত করেছিল। প্রায় অবিশ্বাস্য সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিত তল্লাশ করে, কোনোরকম রাজনৈতিক চাপানউতোরে না গিয়ে, কেন এমন হচ্ছে, কেন মানুষের শুভবোধ হারিয়ে যাচ্ছে— এর অন্তর্তদন্ত জরুরি বিবেচনা করেছিলেন কোচবিহারের অগ্নি নাট্য সংস্থার নাট্যকার-নির্দেশক অর্ণব মুখোপাধ্যায়। কারণ শিক্ষাক্ষেত্রে জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা এবং অসহনশীলতা তরুণ প্রজন্মকে জীবনবিমুখ করে তুলছে। এই ভোগবাদী ব্যবস্থায় সরবরাহ করা উপাদানে আকৃষ্ট করছে। কিন্তু গঠনমূলক দিশা দেখাতে পারছে না। উলটে তাদের সীমাহীন লোভের বশবর্তী করে, আত্মস্বার্থ চরিতার্থ করার প্রবণতা উসকে, ইন্দ্রিয়াসক্ত করে বিভিন্ন বিচিত্র অপরাধে লিপ্ত হবার সম্ভাবনা টেনে আনছে। একেবারে পণ্য হয়ে যাওয়া নারীদেহে পৌরুষ দেখাবার ঝোঁক, প্রতিহিংসা, প্রতিশোধলিপ্সা যুবসমাজের অভিমুখকে এই নারী হত্যা ও ধর্ষণের দিকে ধাবিত করছে। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলেমেয়েদের অবাধ নেশাগ্রস্ততা, অলীক জীবনের মোহগ্রস্ততা এবং ন্যায়-নীতিতে বীতশ্রদ্ধ অসামাজিক হয়ে পড়া বেপরোয়া এই বাস্তবতার বিরুদ্ধে তাই কী করা যায়, কীভাবে এর প্রভাব-বিরুদ্ধ নাটকে কিছু করে দেখাবার কথা ভাবা যায়— তা ভেবেছিলেন অগ্নি সংস্থার চালক, যিনি একজন স্কুলের শিক্ষক, নাট্যজন এবং নাট্যকার অর্ণব মুখোপাধ্যায়। তাই তিনি এক বিভীষিকাময় রাত্রির কল্পনায় লিখেছিলেন এই “কালরাত্রি” নাটক।
নাট্যঘটনায় দেখা গেছে থানার লকআপে আটক করা হয়েছে উত্তরায়ণের বাবা, মা, হবু শ্বশুর— এদের। যারা কিনা স্নেহ-ভালোবাসা দেবার তুল্য অভিভাবক। কেননা এরা নাকি উত্তরায়ণকে অমানুষিক নির্যাতন করেছেন। কারণ সে কিছুদিন অসৎসঙ্গ দানে, কলেজ ক্যাম্পাসে চরিত্রবিরুদ্ধ কার্যকলাপ চালিয়ে রোমহর্ষক পর্বের শুরুয়াত করেছিল। তাই আত্মীয়-পরিজন বাধ্য হয়েছিল শুদ্ধস্বরের সন্ধান করতে। আর্তনাদ করেছিল নিজেদের আত্মজের ভেতরে কলুষিত অস্তিত্ব দেখে। কারণ আদপে উত্তরায়ণ অত্যন্ত সংবেদনশীল ছেলে ছিল। ছিল সব শুভবোধে ভরপুর। সংসর্গী যুবকেরা তাকে হিংস্রধর্মে দীক্ষিত করছে। তারা যারা ফ্রাস্ট্রেটেড, এক উগ্র জীবনবোধে অনুরক্ত যুবকেরা। এই নাটক অধঃপতিত যুবসমাজের অবক্ষয়কে তুলে ধরে যেকোনো কলেজ কালচারকে চিহ্নিত করেই অভয়া-কাণ্ডের অভয়ারণ্যের বীভৎসতা দেখিয়েছে। নাট্যকার অর্ণব মুখোপাধ্যায় কিছুটা কৌতূহল এবং আকস্মিক বিপর্যয়গুলিকে নাটকে বিলম্বিত ও পর্যায়ক্রমে তুলে ধরার কৌশলকে নাটকের শরীরে এনেছেন। এই বিষয়টি দর্শকের বোধগম্যতা অনুসারে মেপে দেখা দরকার।
খুব ভালো চরিত্রায়নে বাবা সুশোভন / সৌরভ গোপ, মা মধুরা / ঋতুপর্ণা দাস, অমিত / দীপংকর সরকার এবং উত্তরায়ণ / প্রিয়দর্শী রায় চমৎকার উপস্থিতি। ইন্সপেক্টর চরিত্রে শীর্ষেন্দু ঘোষ বয়সে তরুণ। তাকে কিছুটা স্টাইলাইজড চরিত্রে যেতে হতে পারে। এছাড়া প্রাচী / ঐন্দ্রিলা কর, কনস্টেবল ও মস্তান / কুণাল রায়, মস্তান / রাকেশ পাসোয়ান, অঞ্জনা / আলপনা ভৌমিক এবং ডাক্তারের ভূমিকায় অর্ণব মুখোপাধ্যায় যথেষ্ট সাবলীল ও স্বাভাবিক নাট্যানুসারী চরিত্রায়ন। নাটকের আলো চয়ন করেছেন মাধব বর্মন, আবহ সংযোজন দেবজিৎ হালদার, মঞ্চ চিন্তনে দেবজিৎ ও দীপংকর এবং রূপসজ্জায় সফল ঐন্দ্রিলা ও সৌরভ প্রমুখ।
এই নাটকের উদ্দেশ্য যুবসমাজকে, তাদের অবসাদ, আশা-আকাঙ্ক্ষার অপূর্ণতার উৎসকে খুব কাছ থেকে দেখেই তবে নাটকে বিচিত্র বিচারের মধ্যে শুদ্ধতাকে আটকে রেখে স্মৃতির আলোকে নগ্নভাবে বীভৎস উল্লাসে আজকের যুবমনকে স্ক্যান করতে চেয়েছে এই নাটক। এই কারণে এই নাটকের কিছু সীমাবদ্ধতাকে উপেক্ষা করা যায়। ভিন্ন অভিমুখে ধাবিত এমন বিষয়ের বাংলা নাটক কমই আছে।
Rabindra Nagar Natyaayudh
Publication Department
3, West Rabindra Nagar
Kolkata, 700065, West Bengal
📞9874053622/9331834142