CALL FOR PAPERS - MAY, 2026
দুলাল চক্রবর্তী: গত ২১ মার্চ সন্ধ্যা ৬টায়, স্থানীয় সার্কাস ময়দান সংলগ্ন বিনয় স্মৃতি পাঠচক্র গৃহে, কাঁচরাপাড়া 'ফিনিক'-এর ব্যবস্থাপনায় এবং সংশ্লিষ্ট আরও অন্যান্য নাট্যদলের উৎসাহী কর্মীদের উপস্থিতিতে বার্ষিক বক্তৃতামালা অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। আলোচ্য বিষয় ছিল—“এই সময়ের থিয়েটার কি দর্শকদের চাহিদা পূরণ করতে পারছে?” প্রারম্ভিক পর্যায়ে 'ফিনিক' শিল্পীরা সমবেত কণ্ঠে এই অশান্ত পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে, রাজনৈতিক অমানবিকতার বিরুদ্ধে 'যুদ্ধ নয় শান্তি চাই' কামনায় গণসঙ্গীত পরিবেশন করে আলোচনা সভার গুরুগম্ভীর পরিবেশ রচনা করেছিলেন। সংস্থার সভাপতি যমুনাকান্ত চক্রবর্তী এবং নির্দেশক কনক মুখোপাধ্যায় সময়কে পর্যালোচনা করে সমগ্র বিশ্বের দিকে তাকিয়ে থিয়েটারের গুরুত্ব এবং মানুষের ওপর নেমে আসা রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করেছিলেন। এদিন আলোচনায় নিজেদের অভিজ্ঞতা ও অভিমত ব্যক্ত করতে উপস্থিত ছিলেন নাট্য আলোচক ও অভিনেতা দুলাল চক্রবর্ত্তী এবং নাট্যকার ড. অপূর্ব কুমার দে। আলোচনার সঞ্চালক ছিলেন 'গ্রুপ থিয়েটার' পত্রিকার সম্পাদক দেবাশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রায় দু'ঘণ্টার এই আলোচনায় এদিন উঠে এসেছিল এই জটিল সময়ে দর্শকদের অবস্থান, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, আর্থ-সামাজিক টানাপোড়েনের কথা। একই সঙ্গে আলোচিত হয়েছে এই সময়ে পরিবেশিত নাটক ও নাট্যের বাজার দখলের মরিয়া স্পৃহা এবং সেই মোতাবেক নিজেদের চর্চাকে চরম আর্থিক প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রবহমান রাখার প্রচেষ্টার বার্তা। অতীতের এবং আজকের থিয়েটারের তুলনামূলক আলোচনায় উঠে এল—নাট্যদলগুলোর অন্দরমহলে যে দায়ে দর্শক-চাহিদা বৃদ্ধি করা যেতে পারে, সেখানেই স্রোতহীন মরা নদীতে জমা পচা কাদায় বিনোদন চেয়ে পা হড়কে দর্শক-চিত্ত কর্দমাক্ত হবার পারম্পর্য ও পরিপ্রেক্ষিত।
বিনোদনভিত্তিক এক খোলা বাজার সভ্যতায় থিয়েটার যখন বিপণি মাত্র, তখন নান্দনিকতা, নাট্যের আধুনিকতা এবং বক্তব্যের ক্ষুরধার রচনা ও নির্মাণ—সবই দর্শকদের কাঁধের ওপর এক একটি জিজ্ঞাসা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কাজেই দর্শকদের চাহিদা ও খিদে না বুঝে চলা একটি নিরপেক্ষ শীর্ষক দলীয় ভুল এবং অরাজনৈতিক চিন্তায় আবিষ্ট থিয়েটার চর্চা ক্রমেই এই সংখ্যালঘু শিল্পের নিজস্বতাকে ম্লান করছে। দর্শকদের গুরুত্ব না দিয়ে তাঁদের ওপর বিচিত্র ও অবান্তর নাট্য চাপিয়ে দিয়ে আদতে অবরুদ্ধ করা হচ্ছে রাজনৈতিক মতবাদকে। যে নাটকে মানুষ নিজেকে খুঁজে পেতে হয়রান, যে নাটকে নেই অন্যায়ের প্রতিবাদ, বরং আছে সংস্থার আত্মপ্রসাদ এবং নেট যুগের ভোগবাদী সুবিধার চমকপ্রদ উপস্থাপন মাত্র—তা থিয়েটারের সংকটকেই স্পষ্ট করে।
যেভাবে বাংলা নাটকের উৎকর্ষতা বিস্মৃত হচ্ছে, যেভাবে উৎসবের ভিড়ে একই ধরনের নাট্যাভিনয় দর্শকদের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে তাঁদের ক্লান্ত ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, তা নিয়ে বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এই আলোচনা সভায় দুই বক্তার কণ্ঠে, সঞ্চালকের আলোকপাতে এবং ফিনিক কর্মীসহ উপস্থিত নাট্যজনেরা থিয়েটারের পথ চলাকে সুষ্ঠু ও সুষমামণ্ডিত দেখার প্রত্যাশায় নিজেদের হাহাকার ও অভিমত ব্যক্ত করেছিলেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল—যেখানে নাটক দেখতে ২৫-৩০ জন দর্শক উপস্থিত হন, সেখানে এই সেমিনারে প্রায় ৫০ জন সিরিয়াস নাট্যকর্মী শ্রোতা হয়ে চুপচাপ বসে ছিলেন। তাঁদের সকলকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।
Rabindra Nagar Natyaayudh
Publication Department
3, West Rabindra Nagar
Kolkata, 700065, West Bengal
📞9874053622/9331834142