CALL FOR PAPERS - MAY, 2026
দুলাল চক্রবর্তী: চন্দননগর সংস্থিতি নাট্যদলের সাম্প্রতিক নাটক “মিশন-৭২” মঞ্চস্থ হলো হালিশহর ইউনিটি মালঞ্চের বিনোদিনী নাট্যমঞ্চে, কাঁচরাপাড়া ফিনিকের ২০২৬-এর মিলন সাংস্কৃতিক উৎসবে, দ্বিতীয় দিন ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে। এই নাটকের রচনা, নির্মাণ এবং সামগ্রিক পরিকল্পনা অনুপম দত্তের। নাটকের আলোক প্রক্ষেপণ করেছেন অরিন্দম পালসাই। আবহ প্রক্ষেপণ করেছেন অভিজিৎ দত্ত। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন— ড. ম্যাথু ব্রাউনের চরিত্রে অনুপম দত্ত, ড. ইভানের ভূমিকায় ধীমান শীল। এছাড়া ড. মাইকেল উইলিয়ামস / শেখর বন্দ্যোপাধ্যায়, ড. ম্যাকডালেনা উইসনিয়েস্কা / রীণা দত্ত, মিলি ব্রাউন এবং ড্যান্স গার্ল (দ্বৈত চরিত্রে) কলি ঘোষ এবং আগন্তুক, গিটারিস্ট, বার ওয়েটার— এই তিনটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন কৃষ্ণেন্দু দে। নাটকের নেপথ্য ভাষ্যে ছিলেন প্রবীর দত্ত।
মুখে যতই মানুষকে সুখে থাকার বার্তা দেওয়া হোক না কেন, পৃথিবীতে মানুষ কাঁদছে। এই নাটকের মর্মার্থ এইরকম— সহজ, সরল, স্বাভাবিক ছন্দে মানবের কল্যাণকামী ইচ্ছা প্রবাহিত হলে পৃথিবীটাই সুন্দর হতো। মানবিক বিকাশে সবকিছুই শাশ্বত সুন্দর হওয়ারই কথা ছিল। কিন্তু রাষ্ট্রিক ব্যবস্থার কূটনীতিক চিন্তা, স্বার্থ এবং লোভের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে পড়ায়, ক্ষমতার দ্বান্দ্বিকতায় উৎপন্ন চক্রান্ত এবং ছলনা পৃথিবীর ইতিহাসকে চিরদিন কলঙ্কিত করেই চলেছে। পুঁজি-নিয়ন্ত্রিত খোলা বাজারের মূল্যেই পৃথিবীতে সব মানুষই এখন পণ্য। “মিশন-৭২” নাটকে এটাই দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ভালো কোনো কাজই, পুঁজিনির্ভর সাম্রাজ্যবাদী শক্তি মানুষের সার্বিক জীবনকে উন্নত করে না। মাঙ্গলিক কর্মকাণ্ডেও মানুষকে বিপন্ন ও ক্ষতিগ্রস্ত করার প্রয়াস অব্যাহত থাকে। তাই আতঙ্কিত এক দশায়, রাষ্ট্রের চিন্তা বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করে কীভাবে বিজ্ঞানের প্রসারকে প্রতিহত করে চলেছে এবং মানুষের জীবননাশের কারণ হয়ে চলেছে— তা শুধুই পুঁজির দাসত্ব করা এক অদৃশ্য শক্তি। যে অমোঘ অশুভ শক্তির কাছে আমাদের বাস্তবতা পরাস্ত হয়।
এই মর্মেই নাটকের গল্পে দেখা যায়, চার বিজ্ঞানী ক্যান্সারের ওষুধ আবিষ্কারের চেষ্টায় মগ্ন রয়েছেন। কিন্তু ফান্ড না পেয়ে বিজ্ঞানের গবেষণাকে তাঁরা সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছেন না। হঠাৎ করেই অজানা এক টেলিফোনে আসা ক্ষমতাধরের ব্যক্ত করা কথায় তাঁদের কাছে চলে আসে একটা বাক্স। জানানো হয় তাতে আছে অনেক টাকা এবং এই টাকা নেওয়ার জন্য কোনো শর্ত পূরণের প্রয়োজন নেই। কিন্তু কিসের টাকা? প্রেরক কে? কেন টাকা দিচ্ছে? উদ্দেশ্য কী? আদৌ কি বাক্সে টাকা আছে? নাকি অন্যকিছু! এই নিয়ে শুরু হয় এক টানাপোড়েনের নাটক। রোমহর্ষক থ্রিলারের দিকেই নাটক এগোতে থাকে। যার কৌতূহলী দ্বান্দ্বিকতায় ‘হওয়া’ না ‘হতে পারার’ আশঙ্কা ক্রমে বিবিধ পর্বে ভাষা পায়। আর এইভাবেই শেষে ঘটে যায় হঠাৎ এক বিপত্তি। “মিশন-৭২” নাটকের সামগ্রিক প্রকাশ আমাদের এক শঙ্কিত যাপনকেই শোনায়।
এই প্রযোজনা আমাদের মুগ্ধ করেছে। অনন্য অভিনয়শৈলীতে নির্মিত এই নাটকের প্রতিটি চারিত্রিক পাশ্চাত্য ব্যঞ্জনা অপূর্ব। বক্তব্য, কথা, ঘটনা ক্রমে প্রকাশিত হয়েছে। আলো-আবহ চমৎকারভাবে সাথ দিয়েছে। বৌদ্ধিক-সাংস্কৃতিক চেতনায় প্রতিটি চরিত্র নিজেদের সামর্থ্যে শারীরিক এবং মানসিক ছন্দে ভিন্নতা পেয়ে “মিশন-৭২”-কে উজ্জ্বলতা দিয়েছে। এই সময়ের ধ্বংসাত্মক কথাই ইঙ্গিতে বলেছে। একটি দায়বদ্ধ নির্মাণ।
Rabindra Nagar Natyaayudh
Publication Department
3, West Rabindra Nagar
Kolkata, 700065, West Bengal
📞9874053622/9331834142