CALL FOR PAPERS - MAY, 2026
নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলা নাট্যমঞ্চে ইতিহাসভিত্তিক প্রযোজনার প্রতি আগ্রহ বরাবরই লক্ষণীয়। সেই ধারায় নতুন সংযোজন হতে চলেছে নাট্যদল রং ও মুখ-এর প্রযোজনা “রূপাকৃতি”, যা প্রথমবারের মতো মঞ্চস্থ হতে চলেছে আগামী ১লা এপ্রিল, তপন থিয়েটারে। প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাসের এক বিতর্কিত অধ্যায়কে কেন্দ্র করে নির্মিত এই নাটক ইতিমধ্যেই নাট্যপ্রেমীদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
গুপ্তযুগের ইতিহাসে রামগুপ্তের উপস্থিতি এবং দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তকে ঘিরে ‘ভ্রাতৃঘাতী’ বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার বিষয়। এই প্রযোজনায় সেই প্রশ্নগুলিকেই নতুনভাবে পুনর্পাঠের চেষ্টা করা হয়েছে। ঠিক কী ঘটেছিল সেই সময়? আদৌ কি শুধুই ক্ষমতার লোভ, নাকি তার অন্তরালে ছিল গভীর রাজনৈতিক কৌশল? পদ্মাবতী রাজকন্যা ধ্রুবদেবীর ভূমিকাই বা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল? এইসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার প্রয়াসেই “রূপাকৃতি”।
সংস্কৃত নাট্যকার বিশাখদত্ত রচিত, বর্তমানে প্রায় অবলুপ্ত নাটক “দেবী চন্দ্রগুপ্তম্”-এর উদ্ধারপ্রাপ্ত তেরোটি শ্লোক এবং সমকালীন ইতিহাসের সীমিত তথ্যের ভিত্তিতে এই নাটকের চিত্রনাট্য নির্মিত হয়েছে। সমুদ্রগুপ্ত ও দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের মধ্যবর্তী সময়ের ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে নাটকটি এগিয়ে চলেছে। যদিও ঐতিহাসিক তথ্য সম্পূর্ণ নির্ভুলভাবে পাওয়া যায় না, তবুও প্রাপ্ত তথ্যের নির্যাস থেকে একটি নাট্যরূপ নির্মাণের সচেতন প্রয়াস এই প্রযোজনার মূল শক্তি।
নাটকের কাহিনিতে উঠে আসে—সমুদ্রগুপ্তের মৃত্যুর পর স্বল্প সময়ের জন্য রামগুপ্তের সিংহাসনে আরোহণ, পশ্চিমী শক রাজা রুদ্রসিংহের আক্রমণ এবং অপমানজনক সন্ধিশর্ত। সেই প্রেক্ষাপটে ধ্রুবদেবীকে শত্রুর হাতে সমর্পণের সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তীতে চন্দ্রগুপ্তের সাহসী পরিকল্পনা—ধ্রুবদেবীর ছদ্মবেশে শত্রুশিবিরে প্রবেশ করে রুদ্রসিংহকে হত্যা—এই নাটকের নাটকীয়তা ও উত্তেজনার মূল উপাদান। পরবর্তীতে রামগুপ্তের পতন এবং চন্দ্রগুপ্তের সিংহাসন লাভ ঘটনাপ্রবাহকে আরও জটিল ও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
মঞ্চে অভিনয়ে থাকছেন কমল সরকার, ডঃ বাসুদেব ভট্টাচার্য, দীপক সেনগুপ্ত, শুভজিৎ চাউলিয়া, সৌরভ হাওলাদার, কৃষ্ণেন্দু মণ্ডল, প্রাজ্ঞ দত্ত, কৃষ্ণা ব্যানার্জী, কবিতা সোনালী, তনুশ্রী দাস, নিবেদিতা বাগচি, ডাঃ দেবস্মিতা দাস চৌধুরী এবং ডাঃ উৎপল কুমার দত্ত। বহুমুখী এই শিল্পীদল নাটকটির চরিত্রগুলোকে মঞ্চে জীবন্ত করে তুলবেন বলে প্রত্যাশা।
নেপথ্যে কোরিওগ্রাফিতে প্রাজ্ঞ দত্ত, আলোক নির্মাণ ও সম্পাতে শশাঙ্ক মণ্ডল, মঞ্চ নির্মাণে অরুণ মণ্ডল, সুর সংযোজনে সংযুক্তা বন্দ্যোপাধ্যায়, আবহ প্রক্ষেপণে সব্যসাচী পাল এবং পোশাক ও উপকরণে পূর্ণচন্দ্র প্রামাণিক কাজ করছেন। নাটকের সামগ্রিক মেজাজ নির্মাণে এই কারিগরি দিকগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
নাটক, আবহ-আলো-মঞ্চ পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় রয়েছেন শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি ইতিহাসের খণ্ডিত উপাদানকে নাট্যরীতির মাধ্যমে একটি সুসংহত রূপ দেওয়ার প্রয়াস নিয়েছেন।
প্রথম মঞ্চায়নের আগেই “রূপাকৃতি” নাটকটি তার বিষয়বস্তুর জন্য আলোচনায় উঠে এসেছে। ইতিহাস, রাজনীতি এবং মানবিক সম্পর্কের টানাপোড়েন—এই তিনের সংমিশ্রণে নির্মিত এই প্রযোজনা দর্শকদের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্যতা পায়, এখন সেটাই দেখার। তবে প্রিভিউ হিসেবে বলা যায়, চিন্তাপ্রবণ নাট্যভাষা ও বিষয় নির্বাচনের কারণে এই প্রযোজনা বাংলা নাট্যমঞ্চে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হয়ে উঠতে পারে।
Rabindra Nagar Natyaayudh
Publication Department
3, West Rabindra Nagar
Kolkata, 700065, West Bengal
📞9874053622/9331834142