CALL FOR PAPERS - MAY, 2026
দুলাল চক্রবর্তী: অসাধারণ কমেডি নাটক ‘সদানন্দের সাতকাহন’। নির্মাণ করেছে গোবরডাঙ্গা রূপান্তরের শিল্পী-কুশীলবেরা। অনবদ্য কাস্টিং এবং সেই মোতাবেক চরিত্রায়ন। গৌতম রায়ের লেখা এই নাটক ‘সদানন্দের সাতকাহন’-এ, নাটকের রূপসজ্জা, সামগ্রিক পরিকল্পনাসহ নাট্যনির্দেশনার দায়িত্বে ছিলেন অভীক দাঁ, যিনি একজন অসম্ভব ভালো অভিনেতা। বিশেষত সিরিও-কমিক অভিনয়ে অসম্ভব দক্ষ তিনি। অন্যদের দিয়ে যথার্থ অভিনয় করিয়েও নিতে পারেন। ‘সদানন্দের সাতকাহন’ নাটকের অনুপম হাস্যরসের জোগান উনিই দিতে পেরেছেন। এই নাটকের মঞ্চভাবনা অতনু পাল, আলোক চিন্তা সৌম্য হরি, আবহ নির্মাণ করেছেন চন্দন দেবনাথ এবং আবহ প্রক্ষেপণ করেছেন মিস্টার আকাশ।
‘সদানন্দের সাতকাহন’ একটি সচেতন চিন্তার উপর আধারিত কমেডি নাটক। হেড অফিসের বড়বাবু সদানন্দ। সে ক্লান্ত যখন সংসার প্রতিপালনে, তখনই একদিন স্ত্রী পদ্মাবতী জানিয়েছিল বেকার ছেলে রাহুল হাসি নামের এক মেয়েকে প্রেম করে। বিয়ে দেবার চাপ আসছে ছেলের তরফ থেকে। খেপে উঠেছিল সদানন্দ। সংসারে সে দাসখত দিয়ে বসে আছে যে, নিষ্কর্মা ছেলের বিয়ে দিয়ে তাকেই আবার গাধার বোঝা বইতে হবে! হয়েছিল বচসা। ঠান্ডা লড়াইও জমে উঠেছিল। উত্তেজিত হয়ে সাময়িক তন্দ্রাচ্ছন্ন ঘোরে সদানন্দ স্বপ্নে পেয়েছিল হবু পুত্রবধূ হাসিকে, হাসির বাবা অনাদি কোলেকে, ম্যারেজ রেজিস্ট্রার কাম উকিল মাখনচোরা ধরকে। রেজিস্ট্রি বিয়ের নোটিশ দেওয়া হয়ে গেছে। সদানন্দের অনুমোদনের অপেক্ষায় চার হাতের মিলন অপেক্ষমাণ। কারণ বউ পদ্মাবতী মিশে গেছে দিব্যি। পারছে না শুধু সদানন্দ নিজে। পুরোনো সাবেকি ধারণায় সে নতুন প্রজন্মের এই প্রেম-ভালোবাসা থেকে যাপনের কোনো সূত্রেই যুক্তিযুক্ত কিছুই পাচ্ছে না। তাই স্বপ্নেই চলেছে এমন কাণ্ডকারখানা, যা যেমন হাসিয়েছে, তেমনই ভাবিয়েছে।
মোদ্দা কথা, গোবরডাঙ্গা রূপান্তরের যে কটি নাটক আমি দেখেছি, তাতে দলগত অভিনয়ের উল্লেখযোগ্য মানই পেয়েছি। ‘সদানন্দের সাতকাহন’ নাটকের মঞ্চ-আলো-আবহ অত্যন্ত ছিমছাম। তেমন জটিল ভাবনা বা একটা ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটাবার চেষ্টাও ছিল না। ছিল অনবদ্য এক কমেডি স্কুলিংয়ের পারস্পরিক বোঝাপড়া। প্রতিটি শিল্পী নির্বাচনে ছিল বিশেষ নাট্যমনস্কতা। ছিল অভিজ্ঞতা। ছিল সামনে এগিয়ে যাবার অনুযায়ী উপলব্ধিগত পরিকল্পনা। এখানেই অতি তুচ্ছ কাজের মধ্যেই গোবরডাঙ্গা রূপান্তর বিশাল বিস্তৃত হয়ে ওঠে নাটকে।
আর তাই অভিনয়ের জাদু প্রয়োগ করা হয়। এই নাটকের সফল চরিত্রায়নে সদানন্দ— অভীক দাঁ, জগা (চাকর)— গৌতম দাস, পদ্মাবতী (সদানন্দের স্ত্রী)— মৌসুমী রায়, রাহুল (সদানন্দের ছেলে)— দেবদত্ত কর্মকার, অনাদি কোলে (হাসির বাবা)— চন্দন দেবনাথ, মাখনচোরা ধর (উকিল)— তাপস দাস, হাসি কোলে— লীনা মণ্ডল। সকলেই দুরন্ত-দুর্দান্ত অভিনেতা-অভিনেত্রী।
প্রকৃত অভিনেতা মাত্রেই জানেন টেনশন আর রিলাক্সেশন হচ্ছে চরিত্র নিরূপণের এবং নাট্যক্রিয়া প্রবহমান করার প্রধান উপায়। সে কাজে যেখানে যার যা করার সবই, সবাই নিপুণ ও নিখুঁতভাবে করেছেন। তাই খুবই সার্থক একটি কমেডি বলে মনে করছি। জেনারেশন গ্যাপে প্রাচীন-নবীনের বুঝে নেওয়া পৃথিবীর হদিস এই ‘সদানন্দের সাতকাহন’ চিরদিন সব মঞ্চেই সমানভাবেই সাফল্য পাবে বলে বিশ্বাস।
‘সদানন্দের সাতকাহন’ নাটকটি মঞ্চস্থ হয়েছিল, ইউনিটি মালঞ্চের সদ্য নির্মিত বিনোদিনী মঞ্চে, ফিনিকের ২০২৬ বর্ষের মিলন সাংস্কৃতিক উৎসবের দ্বিতীয় দিন, ১৫ ফেব্রুয়ারি একেবারে শেষ প্রদর্শনে, রাত আটটার কিছু পরে।
Rabindra Nagar Natyaayudh
Publication Department
3, West Rabindra Nagar
Kolkata, 700065, West Bengal
📞9874053622/9331834142